নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সাতজন এবং বিএনপির একজন কর্মীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন, আড়াইহাজার পৌরসভা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণব (২৮), আড়াইহাজার উপজেলা শিবির সভাপতি মিরাজ মাহমুদ (২৪), শিবির কর্মী শাফিন আহমেদ (২৩), জামায়াত কর্মী আব্বাস আল মাহমুদ (৪৭)সহ মোট আটজন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিল নিয়ে গোপালদী পৌরসভার বড় মোল্লারচর এলাকায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাদের মিছিলে বাধা দেন। প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলেও একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়। এতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সাতজন এবং বিএনপির একজন কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা জামায়াতের দক্ষিণ শাখার আমির মাওলানা হাদিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মোল্লারচর এলাকায় আমাদের নারী কর্মীরা গণসংযোগে গেলে বিএনপির কর্মী মোরশেদ তাদের বাধা দেন। বিষয়টি জানার পর আমাদের প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লাসহ নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কর্মী মোরশেদ বলেন, আমরা জামায়াত বা শিবিরের কাউকে হামলা করিনি। তারাই প্রথম আমাদের ওপর চড়াও হয়। এতে কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে, তবে বড় কোনো ঘটনা নয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।