| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যশোর সীমান্ত জনপদে দুই অপরাজিতের লড়াই

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ ইং | ১৮:৩২:০১:অপরাহ্ন  |  ৮৬৭২৯৫ বার পঠিত
যশোর সীমান্ত জনপদে দুই অপরাজিতের লড়াই

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোর-১ (শার্শা) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটের মাঠে দুই অপরাজিত প্রার্থীর লড়াইকে কেন্দ্র করে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।

শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-১ আসনে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল অবস্থিত। তিন লাখ ১১ হাজার ভোটারের এই আসনে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রভাবশালী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী। ইতোমধ্যে উভয় প্রার্থীই সমানতালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের মাঠে তাদের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় জনপদে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী থাকলেও এলাকায় তাদের তেমন পরিচিতি নেই। তাদের প্রচারণা মূলত মাইকিংয়েই সীমাবদ্ধ।

সব রাজনৈতিক দলের কাছেই আসনটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ সাতবার, বিএনপি তিনবার এবং স্বতন্ত্র ও জামায়াত একবার করে বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রতীক হাতে পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা।

এই আসনে আওয়ামী লীগ দৃশ্যত অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের তেমন কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের পর যশোর-১ আসনে বিএনপি-জামায়াতের পুনরুত্থানকে রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ দমন-পীড়নের ইতিহাস এবং বিরোধী দলগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আসনটি এখন একটি ‘নির্বাচনী হটস্পট’-এ পরিণত হয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা ভোট দিতে পারলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি না জামায়াত—কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে, সে হিসাব-নিকাশ করছে দুই দলই। সে ক্ষেত্রে আসনটি বিএনপি না জামায়াতের দখলে যাবে—এমন ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন চারজন নেতা। প্রথমে দল মনোনয়ন দেয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে। পরে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন।

জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান। একক প্রার্থী হওয়ায় তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। তার পক্ষে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে নুরুজ্জামান লিটনের পক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকাশ্য সভা, কর্মীসভা, আলোচনা ও অনলাইন প্রচারণাসহ সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

দলের ভেতরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপি বা জামায়াতের দিকে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

এই আসনে জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমান প্রার্থী হলেও তাদের প্রচারণা মূলত মাইকিংয়েই সীমাবদ্ধ।

শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতা নুরুজ্জামান লিটন তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাশকতার মামলায় কারাবরণ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ না থাকায় তিনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪