লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যাদের ত্যাগের কারণে অনেকের জেল থেকে মুক্তি, দেশে ফিরে আসা, নির্বাচন করা এবং দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়েছে, আজ তাদেরকেই অবজ্ঞা করা হচ্ছে—এটি লজ্জাজনক। যিনি উপকারের স্বীকৃতি দেন না, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন না, তিনি ভালো মানুষ হতে পারেন না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি পক্ষ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার করতে চায় না। যারা সেই সময় আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে, তাদের ‘বাচ্চা-কাচ্চা, নাতি-পোতা’ বলে তুচ্ছ করা হচ্ছে। আমি বিস্মিত ও লজ্জিত। যাদের কারণে আজ নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তারাই আজ অস্বীকৃত—এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, দেশবাসী ৫৪ বছরে রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত দেখেছে। সেই বন্দোবস্ত থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে, দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য তৈরি হয়েছে, চাঁদাবাজিতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়েছে। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকেই গুলি চালানো হয়েছে। এমন রাজনীতি আমরা আর ফিরে আসতে দিতে চাই না।
ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা কি সেই বাংলাদেশ আবার চান? যদি পরিবর্তন চান, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আমরা বলেছিলাম—প্রতিশোধ নেবো না, আমরা নিইনি। চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না—আজও সেই অবস্থানে আছি। মামলা বাণিজ্য কিংবা নিরীহ মানুষকে হয়রানির রাজনীতি আমরা করি না।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরোনো কাসন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করবো না। আমরা সামনে তাকাতে চাই—যুবকদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। বরং তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। আমাদের ১১ দলীয় জোটে ৬২ শতাংশ প্রার্থীই তরুণ। আমরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি—আগামীর বাংলাদেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।
নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনে আমাদের মেয়েরাও লড়াই করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনাই জুলাই আন্দোলনে নতুন শক্তি জুগিয়েছে। মেয়েদের অপমান জাতি কখনো মেনে নেয় না। এখনো যদি একই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে যারা করছে তারা নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে আনবে।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একদিকে আপনারা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেন, অন্যদিকে সেই মায়েদের গায়েই হাত দেন। ভোটের আগের আচরণ দেখলেই বোঝা যায়, ক্ষমতায় গেলে কী হবে। মেয়েদের গায়ে হাত দেবেন না—কারণ আপনাদেরও মা আছে।
আগামী দিনে সরকার গঠন করতে পারলে লক্ষ্মীপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস দেন জামায়াত আমির। পরে তিনি লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাসুম, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়াসহ অন্যরা।