| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হরমুজ প্রণালীতে একদিনে ৬ জাহাজে হামলা,নিহত ১

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:১১:৫৯:অপরাহ্ন  |  ৩৬২৩৫৯ বার পঠিত
হরমুজ প্রণালীতে একদিনে ৬ জাহাজে হামলা,নিহত ১
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে ছড়িয়ে পড়ছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় একদিনেই ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি জাহাজের এক নাবিক নিহত এবং কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন।

বুধবার রয়টার্সএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা দিয়ে ইরানি বাহিনী ইরাকের জলসীমায় থাকা দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে বন্দর ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। হামলায় জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।

হামলার শিকার জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী সেফসেয়া বিষ্ণু এবং মাল্টা পতাকাবাহী জেফিরোস। এগুলো ইরাক থেকে জ্বালানি বোঝাই করে যাত্রা করছিল। কর্মকর্তারা জানান, ইরাকের জলসীমার ভেতরে জাহাজ-থেকে-জাহাজে জ্বালানি স্থানান্তরের সময় হামলাটি ঘটে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা তেল বিপণনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা (সোমো) জানায়, একটি জাহাজ ইরাকি একটি কোম্পানির মাধ্যমে চার্টার করা ছিল এবং অন্যটিতে বসরা গ্যাস কোম্পানির কনডেনসেট পণ্য বোঝাই ছিল।

হামলার পর ইরাকের তেলবন্দরগুলোতে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলো সীমিতভাবে চালু রয়েছে।

ইরাকের বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান ফারহান আল-ফারতুসি জানান, উদ্ধারকারী নৌকা দুটি জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তবে একজন বিদেশি নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে একই দিনে হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ড পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ময়ূরী নারি-তে অজ্ঞাত উৎসের দুটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে এবং তিন নাবিক নিখোঁজ হন। জাহাজটির অপারেটর মূল্যবান শিপিং জানিয়েছে, বাকি ২০ নাবিককে নিরাপদে ওমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জাহাজটি তাদের যোদ্ধারা গুলি করে আঘাত করেছে।

এছাড়া জাপান পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এক মহারাজ, মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার স্টার গুইনেথ এবং আরও একটি কনটেইনার জাহাজও উপসাগরে প্রজেক্টাইল আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং অধিকাংশ নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড আগেই সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছে “এক ফোঁটা তেলও যেতে দেওয়া হবে না”।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা করে তাহলে ওয়াশিংটন আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪