আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বলেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখা হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে খামেনেই বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া থেকে আমরা বিরত থাকব না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার কৌশল অব্যাহত থাকবে।
ইরানের নতুন নেতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বানও জানান। তার বক্তব্যের পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রণালীটি বন্ধ রাখার নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানায়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে থামানোই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
তেলবাহী জাহাজে হামলা
খামেনেইয়ের বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরাকের বন্দর শহর Basra-এ দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। সন্দেহ করা হচ্ছে, বিস্ফোরকবাহী নৌযানের হামলায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। এর আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কয়েকটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা
যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা। সংস্থাটির মতে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাঘাতের একটি।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে প্রণালীটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি