আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা সামরিক অভিযানের ১৪তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, আর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা জোরদার করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী শুক্রবার তেহরানে নতুন করে “বিস্তৃত হামলার ঢেউ” শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। একই সময়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই প্রণালি প্রধান সমুদ্রপথ।
বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানির দাবি, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছর পর্যন্ত।
উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা
ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে এমন সব দেশে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
বাহরাইন: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৯০টি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।
সৌদি আরব: পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং পরে আরও ২৮টি ধ্বংস করা হয়েছে।সংযুক্ত আরব আমিরাত: ড্রোন হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কয়েকটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান “খুব দ্রুত এগোচ্ছে”। তবে ২৫০টির বেশি মার্কিন সংগঠন কংগ্রেসকে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও লেবাননে পরিস্থিতি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান শুক্রবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, ফলে বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে বহু মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরাকেও সংঘাতের প্রভাব
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এদিকে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর দেশটির বন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় প্রভাব পড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি