আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের দক্ষিণ দারফুরে ১৮ বছর বয়সী হানানকে (ছদ্মনাম) সম্প্রতি ‘দ্রুত সহায়তা বাহিনী’র সদস্যরা ধর্ষণ করেছে। হানান জানান, তিনি ও তার এক নারী বন্ধু তাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে চড়ে আসা চারজনের হাতে আটক হন এবং দুইজন করে এক একজন নারীকে ধর্ষণ করে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘যুদ্ধ নারীর শরীরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’ সংস্থার মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে MSF-এর সহযোগিতায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ৩,৩৯৬ জন যৌন সহিংসতার শিকার চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আক্রান্তদের ৯৭ শতাংশই নারী ও কিশোরী। এই সহিংসতার মূল দায়ী হিসেবে RSF এবং তাদের মিত্র মিলিশিয়াগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশুদেরও এর মধ্যে রয়েছে,দক্ষিণ দারফুরে প্রতিটি পাঁচজনের মধ্যে একজন শিশু।
MSF-এর জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রুথ কাফম্যান বলেন, সুদানের যুদ্ধে যৌন সহিংসতা শুধু সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি সম্প্রদায়জুড়ে বিরাজমান। গৃহহীনতা, স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এই অপরাধকে চলতে দেয়।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের দখলের পর, MSF ১৪০ জনের বেশি শরণার্থীকে তাওয়িলায় চিকিৎসা দিয়েছে; তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা আক্রমণ করেছে। হানান ও অন্যান্যরা জানিয়েছেন, ধর্ষণ কেবল যুদ্ধে নয়, বাজার, ক্ষেত এবং অস্থায়ী শিবিরেও ঘটছে।
MSF জাতিসংঘ, দাতা দেশ এবং মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, দরকারি স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সেবা দ্রুত বৃদ্ধি করতে এবং সব পক্ষকে যৌন সহিংসতা বন্ধ করতে ও অপরাধীদের দায়বদ্ধ করতে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি