| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানে যোগ দেবে না ইসরায়েল

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০১, ২০২৬ ইং | ১৮:২১:৫৪:অপরাহ্ন  |  ১৫৩৫৮০ বার পঠিত
ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানে যোগ দেবে না ইসরায়েল

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অংশ নেবে না। ওয়াশিংটন যখন এ যুদ্ধে তার ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ঠিক তখন ইসরায়েলের গণমাধ্যম এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তবে ‘ইসরায়েলি সৈন্যরা স্থলে অংশ নেবে না’, বিষয়টি এমন ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল এ ধরনের যেকোনো অভিযানের দায়িত্ব শুধুমাত্র মার্কিন বাহিনীর ওপরই ছেড়ে দেবে।

এ প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশ হলো যখন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

পেন্টাগন সীমিত অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে, যদিও হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন।

যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে জবাব দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন সেনারা দেশে প্রবেশ করলে ভয়াবহ প্রতিশোধের সম্মুখীন হতে হবে। একটি প্রতিবেদনে তেহরানের এ প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন সেখানে সেনা মোতায়েন করলে মার্কিন বাহিনীকে ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে’।

সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, স্থলপথে আক্রমণ ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো একটি বড় কৌশলগত ভুল হবে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ বলেছেন, ভিয়েতনাম স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে কখন আকাশযুদ্ধ স্থলযুদ্ধে পরিণত হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইরান যুদ্ধেও এখন একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—এবং আগামী ১০ দিনই নির্ধারণ করবে এরপর কী ঘটবে।

চ্যানেল টুয়েলভ-এর প্রতিবেদনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, বিশেষ করে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠস্বরদের মধ্যে। ,তারা যুক্তি দেখান যে, ওয়াশিংটনকে একটি ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে যুদ্ধে নিজেদের সৈন্য পাঠাতে অস্বীকার করছে। এ সমালোচনা একটি বৃহত্তর দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে যে, মার্কিন সেনাদের এমন একটি যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে বলা হচ্ছে, যে যুদ্ধ ইসরায়েল উসকে দিয়েছে কিন্তু নিজে স্থলভাগে লড়বে না।

‘এর পরিবর্তে আমরা যদি ইসরায়েলে একটি স্থল অভিযান চালিয়ে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলো কেড়ে নিই এবং আমাদের টাকা ফেরত নিয়ে আসি, তাহলে কেমন হয়?’—এমন একটি যুদ্ধে ইসরায়েলের স্থল অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ একজন বিশিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবক এ মন্তব্য করেন। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, এ যুদ্ধটি ইসরায়েলের পক্ষেই পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের যুদ্ধ যদি ওয়াশিংটনের প্রতিকূলে যায়, তবে এ উদ্বেগ বাড়ছে যে তা মার্কিন শক্তির পতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং এ অঞ্চলে আমেরিকান সামরিক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিতে পারে। সে পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলকে একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে নয়, বরং এমন এক বিপর্যয়কর সংঘাতের প্রধান চালক হিসেবে দেখা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি ব্যয়বহুল ও অজেয় যুদ্ধে টেনে এনেছে। সেক্ষেত্রে, ইসরায়েলকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হতে পারে, যা আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া একটি সাম্রাজ্যকে এমন এক সংঘাতে ঠেলে দিতে সাহায্য করেছে, যা তার পতনকে ত্বরান্বিত করে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪