আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সরে আসবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আবারও ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা’ চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব দ্রুত ইরান থেকে বেরিয়ে আসব। তবে প্রয়োজনে আবার ফিরে এসে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাব। একই দিন রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথাও রয়েছে তার।
যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে যুদ্ধের একটি ‘বের হওয়ার পথ’ খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ সমর্থন দেয়নি NATO।
তিনি বলেন, যখন আমাদের তাদের প্রয়োজন ছিল, তারা বন্ধু ছিল না। এটা একমুখী সম্পর্ক। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক চান দ্রুত এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসুক যুক্তরাষ্ট্র—যদিও তাতে প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না-ও হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি শাসন পরিবর্তন চাইনি, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেটি হয়ে গেছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। এক সূত্র জানায়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্প দাবি করেন, সেই লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ইরানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও পরিশোধন করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম নয়। আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সবসময় নজরদারি করব। অন্যদিকে ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: রয়টার্স