নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকায় ড্রেনেজ নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই বছর ধরে চলমান এ প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে থাকায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর মাসদাইর বাজার থেকে শেরে বাংলা সড়ক, গুদারা ঘাট, কলেজ রোড, গলাচিপা ও পানির ট্যাংকি মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ইট, বালু ও নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ফলে পথচারী ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশেষ করে কলেজ রোড থেকে পোড়াবাড়ি মোড় এবং মাসদাইর বাজার নতুন মসজিদ পর্যন্ত সড়কের বড় একটি অংশ অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য সড়ক খনন করে কাজ শুরু করা হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজ আর এগোয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিগত দুই বছর ধরে কষ্টে আছি। এই সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণকাজ ধীর গতিতে চলছিল। তবে এখন সেটিও বন্ধ হয়ে আছ। সামনে বর্ষাকাল আসছে। এর আগেই যদি এই সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ না হয় তাহলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেশি হবে।
নাসিক প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী দীপক পাল বলেন, বৃষ্টি বাদল হলে এই সড়কটি দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা ও কাঁদা মাটি তৈরি হয়। প্রায় সময়ই ধীরে চলা রিকশাও উল্টে যায়। বড় গাড়ি তো চলতেই পারে না, আটকে যায়।
কয়েকদিন পরপর এসে সড়ক মাপা হয়, কিন্তু কাজ আর শেষ করা হয় না। আগে বলা হয়েছিল ঈদের পর কাজ হবে, এখন পুরোপুরি বন্ধ, বলছিলেন জামাল হোসাইন নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা।
ওই এলাকার বাসিন্দা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ফারদিন শেখও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এক সপ্তাহ দেখবো। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন না হলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণকে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো”, যোগ করেন ফারদিন।
এদিকে এ বিষয়ে নাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি “এ বিষয়ে আমাকে বলে লাভ নেই” বলে ফোন কেটে দেন।
এ অবস্থায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু