| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নন্দীগ্রামে গোপনে সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রি

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৩, ২০২৬ ইং | ১৬:১৩:৩৬:অপরাহ্ন  |  ৩৮১৬৩৮ বার পঠিত
নন্দীগ্রামে গোপনে সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রি

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গোপনে বিপুল পরিমাণ চাল চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

গতকাল শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। চাল চুরির ঘটনা তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত শামছুর রহমান উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে ভিজিএফ তালিকাভুক্ত জনগোষ্ঠীর স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করার পাশাপাশি অনেকে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মজুত রাখা সরকারি চাল বের করে অটোভ্যানে তুলছে কয়েকজন বহিরাগত যুবক। পাশেই দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। তার বিরুদ্ধে বাসা-বাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স (ইউপি কর) প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জমা দেওয়া সরকারের ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন অন্য ইউপি সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ২১১৮ জন উপকারভোগীর মাঝে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। চাল বিতরণ শেষে সবাই চলে গেলে জনশূন্য পরিষদ চত্বরে দুটি অটোভ্যান আসে। সেখান থেকে ৩৪ বস্তায় ১৭শ কেজি চাল নিয়ে যান প্যানেল চেয়ারম্যান।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুস্থ, অসচ্ছল ও দরিদ্র প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ৮–৯ কেজি করে পেয়েছেন। যারা পাওয়ার কথা, তারা অনেকেই পাননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে চাল পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকায় নাম থাকলেও ইউনিয়নের ৪, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অনেকেই চাল পাননি। স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে সরকারি চাল চুরি হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামছুর রহমান। ভাইরাল হওয়া ভিডিও বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আরা মোবাইলে কল রিসিভ করেননি। তার বরাত দিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ভিডিও দেখেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী শতাধিক সুবিধাভোগী প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান টাকা গ্রহণ করলেও এখনো তা জমা দেননি।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪