নড়াইল জেলা প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মৎস্য অফিসের বিতরণের ৪টি গরু মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ওরফে লেলন মেম্বার আত্মসাৎ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত (১২ জানুয়ারি) দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় নিবন্ধনকৃত জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে ৬০টি বকনা গরু বিতরণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের খোকন শরীফ, জুয়েল মোল্যা, বাসার মল্লিক ও ধলাইতলা গ্রামের সুজন শেখকে গরু দেওয়া হয়েছে।
সরাসরি, মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গেলে খোকন শরীফ ও জুয়েল মোল্যার স্ত্রী আল্লাদী বেগম বলেন, আমরা কোনো গরু পাইনি। ৪ মাস আগে ২০ কেজি চাল পেয়েছি। চাল দেওয়ার সময় নুরুজ্জামান ওরফে লেলন মেম্বার জেলে কার্ড আর টিপ সই রেখে দিয়েছেন। গরু কাদের দিয়েছেন কি করেছেন আমরা কিছুই জানি না। সরকারি ভাবে আসা আমাদের নামের গরু আমরা চাই। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদান যারা মেরে খায় তাদের লজ্জা করে না।
বাসার মল্লিকের বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, আমি দুই দিন আগে শুনেছি ৩/৪ মাস আগে আমার নামে গরু এসেছে। সে গরু তো আমি পাইনি, আর কোথায় গেছে তাও আমি জানি না। আমার নামে গরু এসেছে, আমাদের ডেকে না বললে আমরা কীভাবে জানব। আমি গরিব মানুষ মাছ মেরে খাই, আমার গরু যেই নিক না কেন আমাকে ফেরত দিয়ে দিক।
অপরদিকে ধলাইতলার সুজন শেখের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে তিনি জানান, জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় চাকুরিরত আছেন, তার জেলে কার্ডটি রয়েছে নুরুজ্জামান ওরফে লেলন মেম্বারের কাছে। তার নামে আসা গরুর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আফসোস করে বলেন, আমাদের মতো মানুষের হক যারা মেরে খায় তারা কোনো মানুষ না।
এ বিষয়ে মল্লিকপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন, আমার কাছে কারো কোনো জেলে কার্ড নেই। আমি কারো জেলে কার্ড নিইনি। আর গরু কবে, কাদের মাঝে কীভাবে বিতরণ হয়েছে সেটাও আমি জানি না। উপজেলা মৎস্য অফিস গরু বিতরণে বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেনি। তিনি আরও বলেন, গরুকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার।
লোহাগড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, মল্লিকপুর ইউনিয়নে গরু বিতরণে নামের তালিকা ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান আমাকে দিয়েছেন। তাঁর ইউনিয়ন পরিষদের স্বাক্ষরিত প্যাডে ওই নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যাদের নামের তালিকা দিয়েছেন তাদের সবারই জেলে কার্ড থাকায় তাদেরকে গরু দেওয়া হয়েছে। আমরা তালিকা অনুযায়ী নাম ধরে ডাকছি, তারা এসে গরু নিয়ে গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন