চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে চলমান। তবে বোরো আবাদের জন্য বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংঘবদ্ধ চক্র বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার শুরু করেছে। আর এর সঙ্গে জড়িয়েছে সংস্থার এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে। ব্যক্তির প্রতি ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্পটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা ধনগোদা সেচ প্রকল্পের সব ধরনের কাজে তদারকি হয় ছয়টি ভাগে। প্রত্যেকটি ভাগের জন্য পৃথক কর্মকর্তা রয়েছে। বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে যেসব টেন্ডার হয়েছে, ওইসব কাজ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। আর এসব কাজ কোনো ঠিকাদার শুরু করতে হলে অবশ্যই নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়ে করতে হয়।
গত কয়েক বছর এই সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু কালিপুর এলাকায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই কাজটিতে যে কয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিল স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ওই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় শুরু হয় বিরোধ। ওই কাজ যেসব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, তাদেরকে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তারা নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে।
ওই চক্রটি মেঘনা ধনগোদা প্রকল্পের ফরাজিকান্দি ও এখলাছপুর এলাকায় যে অনিয়মের কথা প্রচার করে, মূলত ওই কাজটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। আমিন অ্যান্ড কোং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ সম্পন্ন করে। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে কাজ বাস্তবায়ন করে চাঁদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজিজ অ্যান্ড ব্রাদার্স।
আজিজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আজিজ মিয়াজী বলেন, তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে প্রকল্পের স্ল্যাব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরপর নির্মাণসামগ্রী থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফরাজিকান্দিতে কিছু স্ল্যাব নির্মাণ করে রেখেছেন। এই নির্মাণ কাজের সঙ্গে পাউবোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এদিকে সংঘবদ্ধ চক্র যে প্রকল্পের অনিয়মের কথা প্রচার করছে, সেটি হচ্ছে কালিপুর এলাকায়। ওই প্রকল্পের কাজটিও করবে আমিন অ্যান্ড কোং। ওই কাজের সেকশন অফিসার হচ্ছেন মো. জুবায়ের। ওই কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। যেখানে কাজ শুরু হয়নি, সেখানে অনিয়ম হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
মেঘনা ধনগোদা পাউবো বিভাগ চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ১২টি প্যাকেজে হচ্ছে। এই কাজ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চলমান থাকে। যেসব কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, এগুলো সঠিক নয়। কোনো একটি পক্ষ তাদের সুবিধা না পেয়ে এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে। এসব কাজের সঙ্গে আমাদের সংস্থার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন কিংবা অন্য কেউ কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নেই। এসব বিষয় আমি গণমাধ্যমে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ধরনের অপপ্রচার একটি সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন ছাড়া অন্য কিছু নয়। যদি সত্যিকার অর্থে অনিয়ম হয়, তাহলে সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন