স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে ডিস্টার্ব করছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারলেই সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে জেলার হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টেনে তিনি বলেন, সেখানে যে সরকার এসেছে তারা বাংলাদেশিদের অনেক নীচু জাতি হিসেবে দেখে। মুসলমানকে অত্যাচার করতে চায়। তারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর, সীমান্তের মানুষের ওপরে আগ্রাসন চালিয়েছে। আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা থেকে শুরু করে সব জায়গায় তারা হস্তক্ষেপ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এখন এটি আরও বড় আকারে চালাতে চাইবে। সে জায়গা থেকে সরকারকে শক্ত হতে হবে।
তরুণ সমাজকে নিয়ে ভারতের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যখন শক্তিশালী হচ্ছে তখন ইন্ডিয়া প্রজেক্ট নিয়েছে। আমাদের যুবকদের ফেনসিডিল, ইয়াবা খাইয়ে নষ্ট করে বাংলাদেশ কবজা করে নিবে ভারত এবং এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
তিনি বলেন, যত রাজনীতি করেন বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। বিএনপি, এনসিপি, জামাত করেন সমস্যা নেই, কিন্তু সীমান্তের মানুষের জন্য কোনো দল নেই। আমাদের একটাই দল বাংলাদেশ। সরকার যদি জাতীয়তাবাদী হয় তাহলে সরকারের মেরুদণ্ড সোজা করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন ক্রাইসিসের সঙ্গে সরকারের অনেক পক্ষ জড়িত। তারা ফ্রেশ হয়ে গেলে ভারতীয় বাহিনী কোনোভাবে সাহস পাবে না। এসময় ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি সীমান্তের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন- ভারতীয় বাহিনী চীনের সঙ্গে পারে না, আমাদের সঙ্গেও পারবে না।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন ‘ইউ আর রিভোল্ট বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে’, খালেদা জিয়া বলেছিলেন ‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা’। কিন্তু এখন যে ক্ষমতায় আছে তার হাতে গোলামির জিঞ্জির পড়ে গেছে। তাকে গোলামির জিঞ্জির থেকে ছুটিয়ে স্বাধীনতার পতাকা তার হাতে তুলে দিতে হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করে নাসিরুদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়ার দুটি গুন ছিলো একটি হলো জাতীয়তাবাদী আরেকটি হলো ইসলামী মূল্যবোধ। এই দুটোকে মিক্স করে ওনি গণতন্ত্রের ডাক দিয়েছিলেন।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে যারা জাতীয়তাবাদী শক্তি বলে আমরা তাদের মাঝে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধ দেখতে পারছি না। এরা গণতন্ত্রকে এরইমধ্যে হত্যা করেছে। যখন ক্ষমতায় যাবো তখন শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করব।
এসময় এনসিপির উত্তরাঞ্চেলর সংগঠক রাসেল আহমেদ, এনসিপি নেতা রকিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব