| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

স্বর্ণের কলসির লোভ দেখিয়ে গৃহবধূকে হত্যা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৩, ২০২৬ ইং | ০৭:০২:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  ২৫২ বার পঠিত
স্বর্ণের কলসির লোভ দেখিয়ে গৃহবধূকে হত্যা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধদগ্ধ এক নারীর মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর গৃহবধূ নাসিমা বেগমকে (৩৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় তান্ত্রিক ও কবিরাজ মো. সামশুল হককে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।

তিনি জানান, সোমবার সকালে ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের একটি নির্জন স্থান থেকে অর্ধদগ্ধ অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মরদেহের গলায় দড়ির দাগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা।

পরে নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে।

তদন্তে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামশুল হক নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ও তান্ত্রিক পরিচয় দিয়ে নাসিমা বেগমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সম্প্রতি নাসিমা তার কাছে টাকা ফেরত বা প্রতিশ্রুত স্বর্ণ দাবি করতে থাকেন।

একপর্যায়ে সামশুল হক পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গুপ্তধন উদ্ধারের আচার অনুষ্ঠানের কথা বলে সুযোগ বুঝে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত নষ্ট করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিনই সন্দেহভাজন সামশুল হককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত ও নিহতের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সামশুল হকের বিরুদ্ধে অলৌকিক শক্তি ও গুপ্তধনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের আরও অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেঙরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাসিমা বেগম রানীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪