| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কুষ্টিয়ায় পতাকা বৈঠকের পর পুশইনের শিকার ১২ জনকে গ্রহণ করল বিএসএফ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ১৯:২৪:০১:অপরাহ্ন  |  ২৪৫৪ বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পতাকা বৈঠকের পর পুশইনের শিকার ১২ জনকে গ্রহণ করল বিএসএফ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে তিন দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেয় বিজিবি। ওই দিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরদিন শনিবার (১৩ জুন) বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।

বৈঠকে বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চায়।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এছাড়া রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্যও ওই দলে ছিলেন।

দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, মশার উপদ্রব, তীব্র গরম এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন বলে জানা গেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অধিকাংশই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সোমবারের পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

অপরদিকে বিএসএফের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪