স্পোর্টস ডেস্ক: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেট প্রশাসন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তামিম বলেন, পরিচালনা পর্ষদের অনেক সদস্যের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করা এবং একসঙ্গে কাজ করে খেলাটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
তিনি বলেন, আমাদের ২৫ জন পরিচালকের উদ্দেশ্য যদি সঠিক থাকে এবং আমরা যদি একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারি, সেটাই হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি।
গত দেড়-দুই বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট নানা চ্যালেঞ্জ ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে উল্লেখ করে নতুন সভাপতি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান।
তামিম বলেন, সামনে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা ভুল করব, আবার সেই ভুল থেকে শিখবও। তবে কোনো অবস্থাতেই ক্রিকেটের স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।
গঠনমূলক সমালোচনার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। তার ভাষায়, মিডিয়া, বোর্ড, ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও সময়ের সঙ্গে ধাপে ধাপে তা জানানো হবে বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, অ্যাডহক কমিটির সময় থেকেই কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যা এখন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিসিবির গঠনতন্ত্রে কিছু দুর্বলতা রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো নিয়ে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরে তামিম বলেন, আমরা যতটা সম্ভব স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করব। এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যা বোর্ডকে বিতর্কের মুখে ফেলবে। ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল কত দ্রুত সংশোধন করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ ব্যবহারের প্রসঙ্গে তামিম বলেন, অনেকে অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছেন, এটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। এখন দেখা যাক, ‘বাপের দোয়া’র চেয়ে ক্রিকেটের দোয়া অর্জন করতে পারি কি না।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি