বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া সদরে বিএনপি নেতা এখলাস মন্ডল বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে পাঁচবাড়িয়া ও চালিতাবাড়ি গ্রামবাসীর সংঘর্ষের পর থেকেই দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। এখলাসের ভাতিজা সাগরের স্ত্রী মারজিয়া খাতুনের সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন চালিতাবাড়ির বাসিন্দারা।
তারা বলছেন, অপকর্ম ঢাকতে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত সন্ত্রাসী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি ও পাঁচবাড়িয়ার বাসিন্দা এখলাস মন্ডল, ভাতিজা সাগরসহ তার কথিত বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন আব্দুল মান্নান।
এর আগে এখলাস বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে চালিতাবাড়ি গ্রামবাসীর ব্যানারে দুদিন ধরে বিক্ষোভের জেরে গত সোমবার সন্ধ্যায় দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এখলাসের অনুসারীরা।
ঘটনার পর গত বুধবার বিএনপি নেতা এখলাসের পক্ষে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার ভাতিজা সাগরের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে এখলাসকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাদের বসতবাড়িতে হামলা হয়েছে। মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবদল নেতা মিনজাহ মন্ডলের গরুর ফার্ম ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এ অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শাখারিয়া ইউনিয়নের জনগণের পক্ষে আব্দুল মান্নান বলেন, মারজিয়া নামের ওই নারী শাখারিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বাবলার কন্যা। এখলাসের ভাতিজা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সাগরের স্ত্রী। তিনি সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে রেখে ব্যাপক মিথ্যাচার করেছেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আব্দুল মান্নান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি এখলাস হোসেন মন্ডল দলের প্রভাব খাটিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা আতিকুর রহমান সাগর ও ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান স্বপন মিলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে চালিতাবাড়ি, পাঁচবাড়িয়া, উলিপুর, নাকান্দি, কদিমপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় চাঁদাবাজি, মারপিট, ছুরিকাঘাতসহ মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় অন্তত ১০ জনকে ছুরিকাঘাত করেছে। ঘটনার দিন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় নারী-পুরুষসহ ৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে মারুফা আক্তার, বুলবুলি বেগম ও নদী আক্তারের অবস্থা গুরুতর। ওইদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এখলাস বাহিনীর তিনজন সন্ত্রাসীকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। পরদিন আবারো দুইজনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরেছে।
এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি এখলাস হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, কোনো ককটেল বিস্ফোরণ হয়নি। চালিতাবাড়ি গ্রামের লোকজনকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে তাকে হেয় করতে এসব ষড়যন্ত্র করছে প্রতিপক্ষরা।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ