📍 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে কয়েকদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার প্রধান নদ-নদী ও ছড়ার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। চেঙ্গি ও মাইনী নদীর পানি ইতিমধ্যেই নিচু এলাকায় ঢুকে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ধস ও বন্যার শঙ্কা।
বুধবার (৯ জুলাই) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, শালবাগানসহ আশপাশের নিচু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চেঙ্গি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। নদীর পানি উপচে কিছু ঘরের আঙিনায় পানি ঢোকার উপক্রম হয়েছে।
“আগেও এমন বন্যা দেখেছি”—আতঙ্কে স্থানীয়রা
মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, “যেভাবে পানি বাড়ছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘরে পানি ঢুকে পড়বে। আগেও এমন হয়েছিল, এবারও খুব ভয় লাগছে।”
মাইনী নদীর পানি উঠছে সড়কে
দীঘিনালার মেরুং এলাকায় মাইনী নদীর পানি বেড়ে স্টিল ব্রিজসংলগ্ন সড়কে পানি উঠে গেছে। মো. জাকির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, “গাড়ি এখনো চলছে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রাস্তা ডুবে যেতে পারে। নিচু এলাকার ঘরেও পানি ঢুকেছে।”
শত শত পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শালবাগান, কলাবাগান ও সবুজবাগ এলাকার প্রায় ৩-৪ শতাধিক পরিবার পাহাড়ধসের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যেই এসব পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি
খাগড়াছড়ি সদর ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে শালবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দ্রুত আরো আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস