📍 জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ঋণের টাকার না দেওয়া মোছা. নুরুন নাহার (৪৭) নামের এক নারীকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) অফিসে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পারলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উর্ধতন কর্মকর্তার সহযোগিতা ওই নারীকে মুক্ত করেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের বাসিন্দা।
তালাবদ্ধ অফিসের মধ্যে থেকে নুরুন নাহার বলেন, আমাকে আটকে রেখেছে। আমি টাকা দিয়ে দেব। তারা এখনিই টাকা চাচ্ছে। টাকা দিতে না পারায় তারা আমাকে আটকে রেখেছে।
ভুক্তভোগী নারীর ছোট ছেলে কান্না করতে করেত বলেন, আমার মা অফিস থেকে কিছু ঋণ নিয়েছিল। অভাবের কারণে মা টাকা দিতে পারেনি। আজ ১০ হাজার টাকা নিয়ে আমি আর মা এসেছিলাম। তবে তারা পুরো টাকার জন্য চাপ দেয়। আবেদা নামের একজন আমার মাকে অফিসে তালা লাগিয়ে আটকে রাখে। আমি তাকে অনুরোধ করে বলেছিলাম, মাকে আটকে না রেখে আমাকে আটকে রাখার জন্য। তিনি শোনেনি। আমার মাকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে বিআরডিবির মাঠ কর্মকর্তা আবেদা খাতুন বলেন, তিনি ১৪ মাস আগে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৪ মাস আগে তার ঋণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তার কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি একদিন বলেন, ভাই হজে গেছে। একদিন বলেন ভাবি মারা গেছে। এভাবে তালবাহানা করত। অফিস থেকে আমার বেতন বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বাজার করতে গেছিলাম। বাজার শেষে নামাজ পরে ওষুধ কিনে আসলাম। লাইট বন্ধ ছিল না। কেউ তার ঋণের দায়িত্ব নিচ্ছিল না। তার জামাইয়ের কাছে ফোন করেছিলাম। তিনি ঋণের দায়িত্ব নেননি। মাত্র তার ছেলের সঙ্গে কথা হলো। এরপর আমি এখানে আসলাম। এরপর তিনি গেটের তালা খুলে দেন।
জীবননগর বিআরডিবি কর্মকর্তা জামিল আখতার বলেন, ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি এখানে এসেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস