ফেনী প্রতিনিধি | রিপোর্টার্স২৪
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ফেনীর জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দেয়। এখন পানি কমতে শুরু করলেও বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ ক্ষতির চিত্র।
কৃষি ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় জেলায় ১ হাজারেরও বেশি মৎস্য ঘের ও পুকুর এবং প্রায় ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১০৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৮২টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৯ হাজার ৫০০ মানুষ।
পরশুরামের চিথলিয়া এলাকার বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী বলেন, “সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ঘর বানিয়েছিলাম। একদিনও থাকতে পারিনি। পানি ঢুকে ঘরটি চোখের সামনে ভেসে যায়।”
ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আলী আশরাফ বলেন, “নদীর পাড়ে থাকি বলে প্রতি বছরই এই দুঃখ পোহাতে হয়। বারবার সব তছনছ হয়ে গেলে আমরা কিভাবে বাঁচবো?”
সড়ক–বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে জেলার বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে অনেক সড়ক। অনেক জায়গায় এখনও সড়ক ও বাড়িঘর রয়েছে পানির নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, “নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর এলাকায় পানি কিছুটা বাড়ছে। পানি নামার পর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।”
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা যাবে। কৃষি ও মৎস্যের যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা প্রাথমিক পর্যায়ের। সম্পূর্ণ চিত্র পেতে সময় লাগবে।”
.
রিপোর্টাস২৪/এস