| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিচার নয়, এখন বেঁচে থাকাই বড় যুদ্ধ জুলাই শহীদ জাহাঙ্গীরের পরিবারের

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৩, ২০২৫ ইং | ১০:০৭:৩৫:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৪৯৪৮৮ বার পঠিত
বিচার নয়, এখন বেঁচে থাকাই বড় যুদ্ধ জুলাই শহীদ জাহাঙ্গীরের পরিবারের
ছবির ক্যাপশন: বিচার নয়, এখন বেঁচে থাকাই বড় যুদ্ধ জুলাই শহীদ জাহাঙ্গীরের পরিবারের

এ এইচ সবুজ (গাজীপুর) : বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ী শেখ জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। অথচ তার স্ত্রী শাহিনুর আক্তার ও ছোট্ট দুই শিশু সন্তান এখনো চরম অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শাহীনুর আক্তারের স্বামীর রেখে যাওয়া দোকানের পুরোনো মালামালই এখন তাদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। স্বামীকে হারিয়ে তার জীবনের প্রতিটি দিন কাটছে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তায়।

নিহত শেখ জাহাঙ্গীর আলম সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা হলেও পেশাগত জীবনের প্রয়োজনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয় বাজারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসার পাশাপাশি লেপ-তোশকের দোকান চালাতেন তিনি।

গত বছরের ৩ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লে মাওনা চৌরাস্তা এলাকাতেও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন শেখ জাহাঙ্গীর।

মর্মান্তিক সেই দিনের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেন না তার স্ত্রী শাহিনুর। চোঁখের পানি আড়াল করতে করতে তিনি বলেন, সেদিন সকালে নাশতা করে বলেছিলেন, মাওনায় গিয়ে দোকানের জন্য লেপ-তোশকের মালামাল আনবেন। পরে খবর পাই, মাথায় গুলি লেগে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। তিন দিন পর গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘর থেকে মরদেহ তুলে আনতে হয়।

নিহত শেখ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, শাহিনুরের ছোট ভাই জুয়েল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর পুরোনো দোকানের মালামাল গুছাচ্ছেন। ছোট্ট সংসারে দুই সন্তান জিমতিয়া পারভীন ও জাকিয়া সুলতানাকেও পাওয়া গেল পাশেই। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ছে ওরা।

শাহিনুর বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া ইলেকট্রনিকসের সামগ্রী বিক্রি করেই কোনোভাবে সংসার চলছে। জায়গাজমি বলতে কিছুই নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তার পাশে নেই। বাবার বাড়ির অবস্থাতো এমনিতেই খারাপ।

এ সময় তিনি আকুতি নিয়ে বলেন, সরকারের কিছু সহযোগিতা পেয়েছি। তাতে কোনোমতে একটা বছর পেরোনো গেছে। তবে সামনের সময়টাতে কী হবে জানি না। আমি চাই, দেশের সরকার এবং সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যেন আমার দুই সন্তানের পাশে থাকে। তাহলে হয়তোবা জীবনের এই যুদ্ধে জিততে পারবো।

শাহিনুরের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া বলেন, আপা একেবারে ভেঙে পড়েছে। অভাবের সংসার, দুইটা বাচ্চা,ভবিষ্যতের চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আমি যতটুকু পারি সহায়তা করছি, কিন্তু সামনে কী হবে জানি না।

স্থানীয়রা জানান, শহীদ জাহাঙ্গীরের পরিবারকে সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মতো আর্থিক ও সামাজিক ভিত্তি তাদের নেই।

শেখ জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মামলার অগ্রগতি কিংবা বিচারের বিষয়ে তারা তেমন কোনো সন্তোষজনক খবর পাচ্ছেন না।

শেখ জাহাঙ্গীরের পরিবার আজ শুধু স্বামীর মৃত্যুর বিচার নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছে। দুই সন্তান আর অশ্রুসিক্ত শাহিনুর আক্তারের নীরব কান্না যেন বলে দিচ্ছে এই দেশে একজন সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কতটুকু, আর সেই মৃত্যুর পর পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম কতটা নির্মম হতে পারে।



রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪