| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পদ্মার ঢলে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৬, ২০২৫ ইং | ০৮:৪৩:৫৩:পূর্বাহ্ন  |  ১৪০৬৪৪৮ বার পঠিত
পদ্মার ঢলে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি
ছবির ক্যাপশন: বন্যার পানিতে ডুবেছে দেড় হাজার বিঘা সবজিক্ষেত, বাজারে দ্বিগুণ দামে সবজি

পাবনা প্রতিনিধি : 

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে পাবনার তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে দেড় হাজার বিঘা জমির মরিচ, কলা ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।


পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন পানি বাড়ছে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার হারে। পানির উচ্চতা আরও এক মিটার বাড়লেই বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।


ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

জেলার সদর, সুজানগর ও ঈশ্বরদী উপজেলার চর ও নিচু এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। হেমায়েতপুর, চরাতারাপুর, ভাঁড়ারা, দাপুনিয়া, লক্ষ্মীকুন্ডা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কৃষকরা হাঁটু থেকে গলা পানি ডিঙিয়ে শেষ চেষ্টা করছেন কুমড়া, লাউ, ধুন্দল ও করলা সংগ্রহের। সদ্য বোনা মূলার ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ কলাক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।

কৃষকরা জানান, এ বছর অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধিতে হাজার হাজার বিঘা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ফসলই নয়, চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক কৃষক ঋণের টাকা শোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।


কৃষকের আর্তনাদ

চর প্রতাপপুরের কৃষক সানাউল্লাহ বলেন, “আমার ২৬০ বিঘা কলার জমি পানির নিচে। সবজি ও মূলার ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকা লোন নিয়েছি, এখন তা শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”

লক্ষ্মীকুন্ডার কৃষক হোসেন মালিথা বলেন, “এক বিঘা মূলা আবাদে খরচ হয় ৩০-৪০ হাজার টাকা, বিক্রি হয় ৭০-৮০ হাজার টাকার। এবার ৫ বিঘা সবজিতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার আয়ের আশা ছিল। কিন্তু সবই এখন পানির নিচে।”


বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ

সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম হু হু করে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগেও কুমড়া বিক্রি হতো ২০ টাকায়, এখন ৪৫-৫০ টাকা। করলার দাম ১,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩,০০০ টাকা মণপ্রতি। ঝিঙে কেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, আর মূলা ৫০০-৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১,২০০ টাকা মণপ্রতি।


কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাবনায় ৩২৬ হেক্টর জমি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১ হেক্টরের মরিচ, কলা ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, “যদি দ্রুত পানি নেমে যায় তবে অনেক জমি রক্ষা পাবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রণোদনা বা সহযোগিতা দেওয়া হবে।”



এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪