কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গভীর রাতে একটি বাল্যবিয়ের আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিয়ের সব প্রস্তুতি ভেস্তে যায় এবং উপস্থিত বরযাত্রী ও স্বজনরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার (৩ জুন) গভীর রাতে শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ইউএনও’র সঙ্গে থানা পুলিশও অভিযানে অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিনশেড ঘরের একটি কক্ষে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে বধূ সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। পাশের কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থী বর এবং বরযাত্রীরা কাজীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। বাড়ির বাইরে চলছিল রান্নার আয়োজন। ঠিক এমন সময় আকস্মিকভাবে সেখানে পৌঁছে যান ইউএনও ফারজানা আখতার, যার উপস্থিতিতেই পুরো আয়োজন ভেঙে পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, মেয়েটি কুমারখালী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছেলেটি একই প্রতিষ্ঠানের এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিভাবকদের দাবি, বিয়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা বিয়ের আয়োজন করেন।
তবে কাজী আসার আগেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ের আসর বন্ধ হয়ে যায়।
ইউএনও ফারজানা আখতার জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন পণ্ড করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয় এবং পরে মেয়েটিকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম