চট্টগ্রাম ব্যুরো : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শুভ মধু পূর্ণিমা পালন করেছেন।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা গভীর ভক্তি ও ঐতিহ্যবাহী উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মধু পূর্ণিমা’ উদযাপন করেন।
দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায় ভাদ্র পূর্ণিমার দিনটিকে মধু পূর্ণিমা উৎসব বা মধু-অর্ঘ উৎসব হিসেবে পালন করেন।
এ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে ত্রিপিটক পাঠ, সমবেত বুদ্ধ বন্দনা, জাতীয়, ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, সীবলী পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান, শীলধারীদের মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ, মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য আলোচনা, আলোক সজ্জা, বুদ্ধ কীর্তন, সন্ধ্যাকালীন প্রদীপ পূজা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং জীব জগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা।
বৌদ্ধ পুরান অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ পারিলেয়া বনে বর্ষাবাস যাপন কালে একটি হাতি প্রতিদিন ফল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত। এ সেবা করা দেখে বনের একটি বানরেরও বুদ্ধকে পূজা করার ইচ্ছা জাগে। ভাদ্র পূর্ণিমাতে সে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করে। মৌচাকে মৌমাছির ছানা ও ডিম থাকায় বুদ্ধ প্রথমে মধু পান করেননি।
বানর তা বুঝতে পেরে মৌচাকটি নিয়ে ছানা ও ডিম পরিষ্কার করে পুনরায় বুদ্ধকে দান করলে এবার বুদ্ধ মধু পান করেন। মধু পান করতে দেখে বানর খুশিতে, আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃক্ষ শাখা থেকে বৃক্ষশাখায় লাফাতে লাগল। হঠাৎ অসাবধানতাবশত বৃক্ষের শাখা ভেঙে বানর মাটিতে পড়ে গাছের গোড়ায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যায়।
পারিলেয়া বনে হাতির কাছে বুদ্ধের সেবাপ্রাপ্তি ও বানরের মধুদানের কারণে এ দিনটি বৌদ্ধদের কাছে স্মরণীয় ও আনন্দ-উৎসবমুখর পুণ্যময় একটি দিন।
নগরীর নন্দনকাননস্থ চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার, কাতালগঞ্জ নবপণ্ডিত বিহার, দেবপাহাড়ের পূর্ণাচার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, মোগলটুলী শ্মশান ভূমি শাক্যমুনি বিহার, আগ্রাবাদ ও চান্দগাঁও বিশ্বমৈত্রী বিহারে। সমস্ত মঠে - বিহারে দেশ, জাতি ও সারা বিশ্বের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ