মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া এলাকায় অবস্থিত ডেরা রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ এবং সেখানে মিল ফ্যাক্টরি স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রিসোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন তোজা, মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতী মুজিবুর রহমান, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, ঘিওর মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি হেদায়েতুল্লাহ, মুফতি আ. মান্নান, মাওলানা আব্দুল মতিন, হিজুলিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষজন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডেইরি ফার্ম করার কথা বলে স্থানীয়দের ভুল পথে পরিচালিত করে অবৈধভাবে রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে, যা এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেরা রিসোর্ট একটি রহস্যজনক প্রতিষ্ঠান। রাতে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছে, গ্রামীণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাচ্ছে। এটি শুধু ঘিওর নয়, পুরো মানিকগঞ্জের জন্য কলঙ্কজনক বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
এ সময় তাঁরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন অবিলম্বে ডেরা রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ দাবি জানিয়ে উক্ত স্থানে মিল ফ্যাক্টরি নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি দাবি জানান। এছাড়াও দখলকৃত কবরস্থান উদ্ধার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে সরকারি খাল পুনঃখনন করে ফসলি জমির জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জমি ফেরত দিয়ে
মানববন্ধন থেকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর মধ্যে যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই ডেরা রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দেবে।
পরে আন্দোলনকারীরা মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লার নিকট স্মারকলিপি জমা দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টাল -এ ‘কবরস্থানে হরিণের খামারসহ নানা অনিয়মের আখড়া ডেরা রিসোর্ট’ শিরোনামে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের পর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় রিসোর্টটির লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসককে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন