এ এইচ সবুজ, গাজীপুর: কিছুদিন অতিবাহিত হলো গাজীপুর জেলার সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ। পূর্বে এ জেলায় মোট সংসদীয় আসন ছিলো ৫টি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে আরও একটি আসন যুক্ত হয় অর্থাৎ ৬টি। আর নব্য সন্নিবেশিত গাজীপুর-৬ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন সংসদীয় আসন গাজীপুর-৬ এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নতুন এই প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণার পর থেকেই গাজীপুর শহর জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটাই আলোচনা কে এই অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান? যা টক অফ দ্যা গাজীপুরে পরিনত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মেধা, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তরুণ প্রজন্মের যোগ্য নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গাজীপুরের কৃতি সন্তান, টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা (টঙ্গী শাখা)-এর সাবেক ভিপি, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তুরস্কের স্কলারশিপ পেয়ে সেখানে গিয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সাবেক সেক্রেটারি এবং বর্তমানে তুরস্কের গাজীপাশা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমানকে গাজীপুর-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন ছিল সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
ড. হাফিজুর রহমানকে গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণাটি প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগরীর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. হাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমীর মু.খায়রুল হাসান, মহানগর সেক্রেটারি আ স ম ফারুক, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা আমির মো: সালাহউদ্দিন আইউবীসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতৃবৃন্দরা বলেন, অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান গাজীপুর-৬ আসনের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংগঠক হিসেবে তার অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তিনি সৎ, মেধাবী ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতীক।
কে এই ড. হাফিজুর রহমান?
গাজীপুরের কালনী গ্রামে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমানের শিক্ষা জীবনের সূচনা কালনী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে। পরবর্তীতে তিনি টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে তুরস্ক সরকারের বৃত্তি পেয়ে গাজীপাশা বিশ্ববিদ্যালয়ে (আঙ্কারা) পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
তিনি বর্তমানে তুরস্কের তোকাত গাজি ওসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একাডেমিক জীবনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তুরস্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ ফোরাম অব তুর্কি-এর সভাপতি এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিভাগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. হাফিজুর রহমান গবেষণা, লেখালেখি ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর রচিত বই ‘এরদোয়ান: দ্য চেঞ্জ মেকার,’আমার দেখা তুরস্ক এবং ‘ইসলামী রাজনীতি তত্ত্বে রাষ্ট্র ধারণা’ যা পাঠক সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার বহু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি ইস্তানবুলে সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর)-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অনলাইন স্কুল তুর্কিয়ে-এর প্রতিষ্ঠাতা ও রেনেসাঁ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান হিসেবে সমাজসেবামূলক কাজে অবদান রেখে চলেছেন।
সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় এই মেধাবী মানুষটিকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করায় গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব