রিপোর্টার্স২৪: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়া পর্যন্ত তারা ষষ্ঠ কিস্তির ঋণ দেবে না। নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের পর যদি সংস্থার নির্ধারিত সংস্কার কর্মসূচি বজায় রাখার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়, তখনই কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে বলে তারা জানায়।
ঋণের ষষ্ঠ কিস্তিতে প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়া কথা ছিল। কিন্তু আইএমএফ বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান এতদিন স্পষ্ট না হওয়ায় অর্থ ছাড়ে আপাতত অনিচ্ছুক।
বর্তমানে সরকারি ও কেন্দ্রীয়ভাবে জানা যায়, ডিসেম্বরেই কিস্তি ছাড়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত অমীমাংসিত অবস্থান ও শর্তাবলীর বিষয়ে দ্বিধার কারণে, তহবিল অর্থ প্রদান পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রিজার্ভ অবস্থা ভালো ও ডলার বাজারে স্থিতিশীল ,অর্থ সঙ্কট নেই ,তাই আইএমএফের অর্থ ছাড়া দেশ চলবে।
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, “ইফ শর্ত কঠোর হবে, বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না। বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো সংকটপূর্ণ নয়।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইএমএফ এমনভাবে শর্ত আরোপ করছেন যাতে অর্থ ছাড় অব্যাহত রাখতে চাপ তৈরি করা যায়। কারণ, বলা যেতে পারে—নির্বাচনের আগে ঋণ না দেওয়া মানে বিশ্বমঞ্চে একটি বার্তা “বাংলাদেশ শর্ত মানছে না”সঞ্চার করা। সংস্থাটি নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিশ্রুতি পেলে তারপর ঋণ কিস্তি মুক্তি দেবে।
একই সময়ে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর একটি আইএমএফ প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। প্রায় দুই সপ্তাহ তারা সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে এবং চলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনই হবে ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ে নির্ধারক।
স্মরণ করা জরুরি ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আইএমএফ কাছে সহায়তা চেয়েছিল। ২০২৩ সালে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে ৩৬০ কোটি ডলার পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৩,২১৪ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির গতি ইতিবাচক, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত। চলতি চালু হিসাবেও ঘাটতির চিহ্ন নেই।
এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক নীতির পুনর্বিন্যাস ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাস ,সবকিছুকে সামনে রেখে অর্থনীতির পথ চলা আরও চ্যালেঞ্জ হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি