জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে যুবলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর আলীর বাধায় দুই বছর ধরে আটকে আছে উপজেলার চতলাপাড়া জিপিএস–সাজলেরচর সড়কের নির্মাণ কাজ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শুক্কুর আলীর সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগ নেতা শাহ আলম (শুক্কুর আলী) ইউপি সদস্য ছিলেন। ওই সময় তিনি এই রাস্তায় একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে মাটির কাজ করেছিলেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলাপাড়া জিপিএস–সাজলেরচর গ্রামের তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিন কোটি ৩৬ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২৪ সালের জুন মাসে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
এরপর রাস্তাটি পাকা করার কাজ শুরু হলে শুক্কুর আলীর বাড়ির সামনে কাজ করার সময় তিনি রাস্তাটিকে নিজের মালিকানাধীন জমি দাবি করে বাধা দেন। এতে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যান। ফলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
শুক্কুর আলী বলেন, “আমি ইউপি সদস্য থাকাকালীন এই রাস্তায় মাটির কাজ করেছি। বন্যার পানিতে ওই মাটি ধুয়ে গেছে। কিন্তু ঠিকাদার আমার মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে কাজ করতে আসলে আমি বাধা দিয়েছি। এতে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।”
উল্লেখিত কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর আলীর ক্রমাগত বাধার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
এতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ও স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যুবলীগ নেতা শুক্কুর আলীর শাস্তি ও দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাজাহান আলী মণ্ডল বলেন, “শুক্কুর আলী একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি জনগণের চলাচলের রাস্তার সরকারি কাজ আটকে দিচ্ছেন—এটা দুঃখজনক।”
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসম আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাস্তা নিয়ে সমস্যা চলছে। গতকাল রোববার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এক পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।”
জামালপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ বলেন, ‘ওই রাস্তার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আছে। দুইবার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপরও কাজ না করলে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া ওই রাস্তার কাজে সাবেক এক ইউপি সদস্য বাধা দিচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি।’
রিপোর্টার্স২৪/এসএন