রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী মামলার তৃতীয় দিনে সোমবার (৩ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণ হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ‘ট্রাইব্যুনাল-১’-এ।
বিচারক বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন তৃতীয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ মো. নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আক্তার নিহা। তার সঙ্গে ছিল তিন বছরের ছেলে আনাস বিন নাদিম। সাক্ষীর শপথ গ্রহণের পরে তার স্বামী হত্যার পুরো বর্ণনা দেন নিহা।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নাদিমের স্ত্রীকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল তাকে সতর্ক করে বলেন, “আপনি বেশি কথা বলেন। এমন কথা বলেন যা আদালতের জন্য বিব্রতকর।”
এর আগে তিনি ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে ঝুলে থাকেন আমির হোসেন। পুলিশের গুলিতে তিনি তিন তলায় পড়ে আহত হন এবং দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সেরে বাড়ি ফেরেন।
মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পলাতক বাকি তিন আসামি হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এদিনের জেরায়, সাক্ষীর স্বামীর হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ না হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনার সাক্ষ্য ভুক্তভোগীর জন্য নেওয়া হচ্ছে; এতে আসামিরা মুক্তি পাবে না।” প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও অন্যান্যরা।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে