জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশকে তার সাংবিধানিক জীবনের ব্যাকরণ নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
তিনি বলেন, আইনের শাসন কোনো আমলাতান্ত্রিক রীতিনীতি বা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অলঙ্কার নয়; বরং এটি একটি নৈতিক পাঠ, যা ন্যায়, যুক্তি ও জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। অধিকার, সীমাবদ্ধতা এবং শাসিত মানুষের মর্যাদাই আইনের শাসনের প্রকৃত ভিত্তি।
শনিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর গভর্নন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লব সংবিধান পরিবর্তন বা বাতিলের কথা তোলে না; বরং এটি সংবিধানের প্রতি আনুগত্য ও দায়িত্ববোধকে শুদ্ধ করতে আহ্বান জানায়। অতীতের ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও বর্তমান সংবিধানই বিচার বিভাগের বৈধতার প্রধান ভিত্তি যা আদালতের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের সংস্কার রোডম্যাপটি সাংবিধানিক স্বাভাবিকতার জন্য জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে কাঠামো দিতে আবির্ভূত হয়েছিল। সেই রোডম্যাপ নিয়ে সারাদেশে যে অভূতপূর্ব বিচারিক রোডশো হয়েছে, তা আমাদের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে প্রথমত, বিচার বিভাগ তার প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকত্ব পুনরুদ্ধারে আগ্রহী; দ্বিতীয়ত, আইনি সম্প্রদায় আবারও তাদের নাগরিক পেশার নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের চেতনা খুঁজে পেয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জানান, এই চেতনার শক্তিতেই আদালত অতীতের সাংবিধানিক ভুলভ্রান্তি দূর করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশে একটি বিচারিক নিয়োগ কলেজিয়াম গঠিত হয়েছে, যা স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত ও পরামর্শভিত্তিক বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, মাসদার হোসেন মামলার উল্লেখ ছাড়া বিচার বিভাগের কোনো আধুনিক সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। ঐতিহাসিক এই রায়ই বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের ভিত রচনা করেছে এবং রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের একটি হিসেবে একটি পেশাদার ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ গড়ে ওঠার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি