| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খেলাপি ঋণ‌ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ইং | ১৫:২৩:৫৪:অপরাহ্ন  |  ১১৯০২০৬ বার পঠিত
খেলাপি ঋণ‌ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :  বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণের একটি গভীর সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চে খেলাপির হার ২৪.১৩ শতাংশ থেকে জুনে বেড়ে ৩৪.৪০ শতাংশে, এবং সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ গোপন থাকলেও নতুন নজরদারি ও বিশেষ অডিটের মাধ্যমে আসল অবস্থা প্রকাশ পাচ্ছে।

মাত্র তিন মাসে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, এবং স্থগিত সুদ বেড়ে ৯৮ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। নেট খেলাপি ঋণও বেড়ে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকার উপর, যা তিন মাস আগের তুলনায় ২৭ হাজার কোটি বেশি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি, ১,৫২,৭৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৪.৬ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪,২৫,৬৬০ কোটি টাকা, যা ৩২.৯ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকগুলোর কিছুতে খেলাপির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যেখানে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে খেলাপির হার মাত্র ৬.১ শতাংশ, যা দেখায় সুশাসন থাকলে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব, অসৎ ব্যবসায়ীদের অপকৌশল এবং ঋণ পুনঃতফসিলে অনিয়ম ব্যাংকিং খাতকে অকার্যকর করেছে। এছাড়া, কিছু বড় গ্রুপ ঋণ পরিশোধে অস্বীকৃতি বা সময়ক্ষেপণ করেছে, যা এনপিএল বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ঋণ, রাইট-অফ, পুনঃতফসিল, স্থগিত ও আদালত-আটকে থাকা ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি শুধু ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি নয়, সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ৩৫ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর আয় ও মূলধনের ভিত্তি দুর্বল করবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা সৃষ্টি হবে, লেনদেন খরচ বাড়বে, এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া অসম্ভব।

বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪১.১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে কমে ৬.১ শতাংশে নেমেছিল। কিন্তু পরবর্তী ১৩ বছরে আবারও খারাপ ঋণ ব্যাপক ও গভীর আকারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ব্যাংকিং খাতে আস্থাহীনতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়বে।

সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪