| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভয়াবহ গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে ঢাকাবাসী

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ইং | ১৮:৫৪:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১২২৯৭৬৪ বার পঠিত
ভয়াবহ গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে ঢাকাবাসী

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: রাজধানীর বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট এখন বছরজুড়েই ভোগান্তির কারণ। আগের মতো শীত মৌসুমে নয়, গত কয়েক মাস ধরে গ্যাসের ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো নাগরিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ঘাটতির পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়াই সংকটের মূল কারণ। দৈনিক ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে এলএনজি নামলেই ঘাটতি দেখা দেয়। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সারা দেশে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে মাত্র ৮৮২ মিলিয়ন ঘনফুট।

লালমাটিয়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা জানান, সকালে গ্যাস চলে যায়, আসে গভীর রাতে। ফলে ভোরে উঠে রান্না করতে হয়। তিনি বলেন, গ্যাসের এই অবস্থায় ছুটির দিনে অতিথি দাওয়াত দেওয়ার সাহস পাই না।

একই এলাকার কাকলী তানভীর বলেন, ২০০৬ সাল থেকে এখানে থাকছি। আগে শীতে সমস্যা হতো, এখন সারা বছরই ভুগতে হয়।

রামপুরার উলন এলাকার সেলিম হাসান বলেন, সকালে গ্যাস না থাকায় নাশতা বাসায় বানানো যায় না। কখনো আগের দিনের ভাত, নয়তো হোটেলে ভরসা। এখন এলপিজির সিলিন্ডার কিনে রেখেছি।

পুরান ঢাকা, শংকর, জিগাতলা, মালিবাগ, ভূতের গলি, চামেলীবাগ, মগবাজার ও ধানমন্ডির কিছু এলাকাতেও একই চিত্র, সারাদিন ধরে গ্যাস থাকে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহও কমানো হয়েছে। পেট্রোবাংলার ২৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা ছিল ২,৪৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে মোট গ্যাসের দৈনিক চাহিদা তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ২,৬১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন ঘাটতি ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমশ কমছে। বর্তমানে খনি থেকে সরবরাহ ১,৭৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

ভোলা গ্যাসক্ষেত্র বড় আবিষ্কার হলেও তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। সাবসি পাইপলাইন নির্মাণকে ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার এখন ভোলায় শিল্প এলাকা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলা বরিশাল সেতু বাস্তবায়িত হলে সেতুর ওপর দিয়ে পাইপলাইন বসিয়েই গ্রিডে গ্যাস আনা সম্ভব।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম। তিতাসের এলাকায় গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ২,১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র দেড় হাজার মিলিয়নের মতো। এর মধ্যে আবাসিকে সরবরাহ হয় প্রায় ১২ শতাংশ। সংকটের কারণে রেশনিং ছাড়া বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

সমস্যার সমাধান বিষয়ে তিনি বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান যত কমবে, সরবরাহ ব্যবস্থাও তত ভালো হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪