| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত প্রতিবেদনে আইজিপির নাম

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫ ইং | ০৭:২৮:৩৫:পূর্বাহ্ন  |  ১১৭১২২৫ বার পঠিত
বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত প্রতিবেদনে আইজিপির নাম
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে। স্পর্শকাতর এই প্রতিবেদন প্রকাশে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা–সমালোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আইজিপি বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) দায়িত্ব পালনের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনে জল্পনা চলছে। সূত্র বলছে, তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ অথবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল; দুটি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটি সামনে আসতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ সেনাবাহিনীর ৫৭ কর্মকর্তা ও আরও ১৭ জনসহ মোট ৭৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিল।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সাত সদস্যের জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করে সরকার। কমিশন গত ৩০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এতে বহিঃশক্তির ভূমিকা ছাড়াও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পৃক্ততার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

প্রতিবেদনের ১৪৬ নম্বর পয়েন্টে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে—তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, ডিএমপি কমিশনার নাইম আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) বাহারুল আলম, পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম এবং বিডিআর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ ও তার তদন্ত দল।

বাহারুল আলম ১৯৮৪ ব্যাচের পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। ঘটনার পর তাকে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতিসংঘে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আইজিপি করেন।

তদন্ত কমিশন প্রধানের বক্তব্য
কমিশন প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে।

আইজিপির প্রতিক্রিয়া
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, কমিশন তদন্ত করেছে, এখন সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।

শহীদ পরিবারের প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ এবং নাম আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমানের মেয়ে ডা. ফাবলিহা বুশরা বলেন, সত্য আমরা জানতে চাই। প্রতিবেদন প্রকাশ জরুরি।
মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচার না হলে ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪