রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সুদানে চলমান যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশটি এখন ‘বৃহৎ’ মানবিক সহায়তা সংকটের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
রবিবার আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডব্লিউএফপির উপপরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে পাঁচ মিলিয়ন মানুষের সহায়তায় কাজ করছে, যার মধ্যে দুই মিলিয়ন মানুষ দুর্গম এলাকায় বাস করে। তবে এই সহায়তা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই কম।
তিনি জানান, সুদানে প্রায় ২ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে, এর মধ্যে ৬০ লাখ মানুষ অনাহারের মুখোমুখি। আমরা যেটুকু করতে পারছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।
স্কাউ বলেন, প্রতিটি উপায়ে সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বিমান থেকে খাদ্য ফেলা, ডিজিটাল নগদ সহায়তা এবং অবরুদ্ধ এলাকাগুলোর বাইরে ত্রাণ বহর অবস্থান করানো তবুও সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। বিশেষত উত্তর দারফুরের রাজধানী এল–ফাশের এবং পশ্চিম কর্ডোফানের বাবনুসার মতো সহিংসতাপ্রবণ অঞ্চলে সহায়তা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ডব্লিউএফপি কর্মকর্তা বলেন, কর্ডোফান অঞ্চলে সরকারি বাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক আরএসএফ এর লড়াই ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কও সতর্ক করেছেন যে কর্ডোফানে এল–ফাশেরে ঘটে যাওয়া গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
গগত নভেম্বর এল–ফাশের দখলের আগে জাতিসংঘ গণহত্যার আশঙ্কা জানিয়েছিল, তবে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। শহর পতনের পর গণহত্যা ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের উপাত্ত স্যাটেলাইট চিত্রেও পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এ পরিস্থিতিকে ‘অপরাধস্থল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দারফুর ও কর্ডোফানের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
রোববার দোহা ফোরামে সুদানের বিচারমন্ত্রী আবদুল্লাহ দিরিফে বলেন, জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মানবিক সহায়তা “লজ্জাজনক ও অপ্রতুল”। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএফ–কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেওয়া সমর্থনই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে।
তিনি জানান, সরকার সীমান্তপথ খুলে দিয়েছে এবং ১২ হাজারের বেশি ত্রাণকর্মীকে ভিসা দিয়েছে। তবুও মানুষকে সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে।
আরএসএফ অভিযোগ করেছে, শুক্রবার চাদ সীমান্তের আদ্রে যুদ্ধবিরতি করিডরটি এসএএফ ইচ্ছাকৃতভাবে বোমা মেরে ধ্বংস করেছে, যাতে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব রোজমেরি ডিকার্লো বলেন, সুদানে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। দুই পক্ষকেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য না করতে বোঝানো অত্যন্ত কঠিন।
দক্ষিণ কর্ডোফানে হামলায় নিহত ১১৬
শনিবার দক্ষিণ কর্ডোফানের কালোগি এলাকায় এক আরএসএফ হামলায় অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৬ জনই একটি প্রাক–প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু। হামলার সময় বিদ্যালয়, উদ্ধারকারী এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তা জানান।
ধর্ষণ
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এল–ফাশের থেকে পালিয়ে আল–আফাদ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ১৯ নারীকে আরএসএফ সদস্যরা ধর্ষণ করেছে। দুইজন নারী গর্ভবতী এবং স্থানীয় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন। সংস্থাটি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘৃণ্য উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে।
এদিকে ব্লু নাইল রাজ্যের আল–দামাজিনে এসএএফ আরএসএফ–এর ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। শহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলাবর্ষণের ফলে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা
জাতিসংঘের হিসাবে, সুদানে সহিংসতায় ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে। আল–জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি