রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করে ভ্যাপ ও ই-সিগারেটের মাধ্যমে দেশে ভয়ঙ্কর মাদক এমডিএমবি বিক্রি করছিল একটি চক্র। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চক্রটির মূলহোতা ও সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ তৈরি করে এই মাদক ক্রেতাদের মধ্যে সরবরাহ করা হতো। তিনি আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রথমবারের মতো দেশে এমডিএমবির বড় চালান জব্দের বিষয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা হলেন- একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ছাত্র খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম (২৬), মেহেদী হাসান রাকিব (২৬), একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস এবং মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত মো. মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস (২৭), ভারতে পড়াশোনা করে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করা মো. আশরাফুল ইসলাম (২৫)।
মহাপরিচালক জানান, ই-সিগারেট ও ভ্যাপের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত এগুলোর মধ্যে নিকোটিন বা টোবাকো ব্যবহার করা হতো, যা আইনগতভাবে সীমিত নয়। তবে সম্প্রতি ই-সিগারেট ও ভ্যাপে নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স (এনপিএস), অপিওডসসহ বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
এর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক নার্কোটিক কন্ট্রোল বোর্ড (আইএনসিবি) ‘অপারেশন ই-ভেপোর-এইট’ নামে বিশ্বব্যাপী নজরদারি শুরু করে। বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ঢাকা ডিএনসির একটি গোয়েন্দা দল গোপন তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভ্যাপে এমডিএমবি সরবরাহ চক্র শনাক্ত করে।
ডিজিটাল নজরদারি ও অভিযান থেকে জানা যায়, মাদকের চক্র হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ক্লোজড গ্রুপ ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ‘অদৃশ্য বাজার’ তৈরি করেছিল। ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো হতো ইন্ড-টু-ইন্ড এনক্রিপ্টেড চ্যাটে, যেখানে কোডওয়ার্ড, লাইভ ট্র্যাকিং ও নির্দিষ্ট ইমোজি ব্যবহার করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো।
উদ্ধার করা চালানে মোট ৩১০ মিলিলিটার এমডিএমবি পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তাররা মূলত সমাজের এলিট শ্রেণীর মধ্যে এই মাদক সরবরাহ করতেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, “ভেপ ও ই-সিগারেটের আড়ালে এমডিএমবি বিক্রি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারী জানি না এটা আসলে বিপজ্জনক মাদক। ডিএনসির তৎপরতায় চক্রটি ভাঙা সম্ভব হয়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা