| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যমুনার ভাঙন, বিলীন হচ্ছে সাপধরী ও মুন্নিয়া গ্রাম

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:১৪:৫০:অপরাহ্ন  |  ২৮২ বার পঠিত
যমুনার ভাঙন, বিলীন হচ্ছে সাপধরী ও মুন্নিয়া গ্রাম

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে মরে গেছে মূল যমুনা নদী। তবে রেখে গেছে কয়েকটি শাখা। শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠে দিগন্তজোড়া ধূ-ধূ বালুর চর। আর বন্যার সময় যমুনার পানি বাড়লেই থৈথৈ পানিতে ভেসে যায় দৃষ্টি যত দূর যায়। শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙনও।

এ বছর বন্যা শুরুর আগেই যমুনার অন্তত তিনটি শাখা নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ইসলামপুর উপজেলার মডেল ইউনিয়ন সাপধরীর মানচিত্র ও বেলগাছা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মুন্নিয়া গ্রামসহ বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পর একে একে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তৎকালীন আওয়ামী সরকার ঘোষিত মডেল ইউনিয়ন সাপধরীর বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও শত শত একর ফসলি জমি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইউনিয়নটির বিভিন্ন পয়েন্টে বালুর বস্তা ফেলা হলেও কোনো কাজে আসেনি সেগুলো।
এলাকাবাসী জানান, সামান্য কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও সেগুলো যমুনার জলে ভেসে গেছে।

এছাড়া যমুনার শাখা নদীর করালগ্রাসের শিকার হয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে বেলগাছা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম মুন্নিয়ার চর। এই সেই মুন্নিয়ার চর, যাকে বলা হয় ইসলামপুরের সেন্ট মার্টিন।

প্রায় দু'শ বছর আগে যমুনার বুকে জেগে উঠে মুন্নিয়ার চর। সময়ের পরিক্রমায় এখানে গড়ে ওঠে জনবসতি। স্থাপিত হয় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার ও সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট।
কিন্তু যমুনা নদীর শাখাসমূহের নাব্যতা সংকটের কারণে পানি বৃদ্ধি পেলেই শুরু হয় তীব্র নদীভাঙন।

ভাঙাগড়ার এই খেলার মধ্যেই সুসংবাদ জানালেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, মূল যমুনা নদী ইসলামপুরের মানচিত্র ক্ষতবিক্ষত করে উপজেলার পশ্চিম পাশে সরে গেছে। যে কারণে রয়েছে একাধিক শাখা এবং চরাঞ্চল। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইতোমধ্যে যমুনার শাখা নদীর ওপর ৮০০ মিটার করে ১৬০০ মিটার দুইটি সেতু, ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানান ইসলামপুরের জনপ্রিয় এই প্রবীণ রাজনীতিক।

সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইসলামপুরের যমুনারচর অঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন জামালপুরের শস্যভান্ডার। কিন্তু এই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে এবং বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে চলাচল করে থাকে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সেতু, রাস্তা, নদীভাঙন রোধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি এবং জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়াসহ যুগ যুগের দুর্ভোগের অবসান হবে।

সাপধরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীণ শিক্ষক জয়নাল আবেদিন বিএসসি বলেন, উল্লেখিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সাপধরী মডেল ইউনিয়ন হবে একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র। যেখান থেকে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ দানু বলেন, মুন্নিয়ার চর গ্রাম জামালপুরের একটি সেন্ট মার্টিন। যমুনার বুকে জেগে ওঠা এই চরটির বয়স এখন ২০০ বছরের উপরে। শিক্ষাদীক্ষা, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সবই আছে এই গ্রামে। বর্তমানে গ্রামটি যমুনার একটি শাখা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছে এই চরে বসবাসকারী ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু স্মৃতিচিহ্ন ও স্থাপনা। তিনি বলেন, স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন, সেগুলো যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম বলে মনে করেন সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি ঐতিহ্যবাহী মুন্নিয়ার চর গ্রামসহ ভাঙন রোধ ও চরবাসীর দীর্ঘ দিনের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন—এটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪