রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীসহ তিনজনকে আটক করেছে র্যাব। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সল করিম এখনো পলাতক রয়েছেন।
র্যাব সদরদপ্তরের গণমাধ্যম শাখার একটি সূত্র জানায়, ফয়সলের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু ও বান্ধবী মারিয়াকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। পরে তাঁদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর ঢাকায় ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে ওই তিনজনকে আটক করা হয়। আইন অনুযায়ী আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আজ সন্ধ্যায় তাঁদের পল্টন থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে ফয়সল করিম একাধিকবার তাঁর স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। ফলে হামলার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি। ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
মাথায় গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ফয়সল করিমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের একসঙ্গে থাকা সাম্প্রতিক কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবিতে থাকা ফয়সল করিমের সঙ্গে হামলাকারীর চেহারার মিল রয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে।
ফয়সল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। তাঁকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সল করিম। ওই মামলায় র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। জামিনে থাকা অবস্থায় এবার ওসমান হাদিকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
ফয়সল করিমকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি