রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরদিন তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ধরনের আচরণ অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়নের স্মৃতি উসকে দেয়। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্বিচার গ্রেপ্তার ছিল নিয়মিত ঘটনা। বর্তমান ঘটনাটি সেই দুঃখজনক বাস্তবতারই পুনরাবৃত্তি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং স্পষ্টভাবে বলতে চায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও ন্যায়বিচারসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযোগ ছাড়াই ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া, সেখানে আটকে রাখা কিংবা পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদক পরিষদ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অনেক সাংবাদিক এখনো কারাগারে রয়েছেন। এ বিষয়ে এর আগেও সম্পাদক পরিষদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে আইন উপদেষ্টা মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ধরনের আচরণ আবারও অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলের সাংবাদিক নিপীড়নের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
সম্পাদক পরিষদ অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি