| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ইং | ২২:৫১:১৯:অপরাহ্ন  |  ৩০৮৭৪১ বার পঠিত
জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনি জোটে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতায় পড়ায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোট ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পিআর পদ্ধতিসহ নানা ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল ইসলামি দলগুলোর ভোট একত্রিত করে নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তবে আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই উদ্যোগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

সূত্র জানায়, দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো একক প্রার্থী নির্ধারণ কিংবা আসন বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তুলনামূলক বেশি সংখ্যক আসনের দাবি করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সূত্রের দাবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শতাধিক আসন দাবি করেছে, আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাচ্ছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী নিজেই কমপক্ষে ২০০ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী। ফলে সব পক্ষের দাবি সমন্বয় করতে গিয়ে বড় ধরনের সমঝোতা সংকট তৈরি হয়েছে।

দাবি পূরণ না হলে বিকল্প জোট কিংবা আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে চরমোনাই ও মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল দুটি। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, এই অবস্থানের পেছনে কোনো বিশেষ মহলের আশ্বাস বা রাজনৈতিক হিসাব কাজ করতে পারে।

এদিকে চলমান এই জটিলতার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি। দলটি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এবং অন্তত ৫০টি আসনের প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে। এনসিপি যুক্ত হলে অন্যান্য শরিকদের আরও ছাড় দিতে হবে, যা বিদ্যমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসলামি দলগুলোর এই নির্বাচনি সমঝোতা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জোট টিকে থাকবে নাকি ভেঙে পড়বে—সেই সিদ্ধান্তই আগামী নির্বাচনে ইসলামি রাজনীতির অবস্থান ও প্রভাব নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪