নেত্রকোণা প্রতিনিধি: ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আগে অবহিত করতে হবে—এমন দাবি করেছেন নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।
গতকাল (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আদালতের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনার প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “কি করছেন, এটা বলেন না আমাকে। আপনি ম্যাজিস্ট্রেট, আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান—এটা আপনি জানেন তো। মোবাইল কোর্ট হচ্ছে, স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। ইউএনও সাহেব আমাকে বলেন, আপনি আছেন ঠিক আছে। এটা আমার ইউনিয়ন। এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।”
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চান—চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি কোন আইনে উল্লেখ আছে? জবাবে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, এটি চেয়ারম্যানের আইনে আছে।
এ বিষয়ে লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তেমন কিছু না। গত বছর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে কিছু ঘর পুড়ে যায়। সেগুলো পুনর্নির্মাণের কাজ চলছিল। সে সময় একজনকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অনুমতি নেওয়ার কথা তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাইদুর রহমান এসে আমাদের কাজে বাধা দেন। তিনি বলেন, তাঁর ইউনিয়ন এলাকায় আদালত পরিচালনা করতে হলে তাঁর অনুমতি নিতে হবে। এটি সরাসরি আইনের পরিপন্থী। কোনো জনপ্রতিনিধি এভাবে আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন