রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পবর্জ্যের প্রভাবে বিশ্বের বহু শহরের বাতাস দিন দিন মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার বায়ুমান উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। টানা কয়েক দিনের মতো আজও রাজধানীর বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখানে বায়ুমান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৫১২, যা নাগরিকদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত।
একই সময়ে পাকিস্তানের লাহোর শহরের একিউআই ছিল ৩৭৫। এ স্কোর নিয়ে শহরটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত শহরের অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বায়ুমান সূচক আজ ২৬৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে তা ভালো বায়ু হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে বায়ু মাঝারি মানের ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ুকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে একিউআই থাকলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সুস্থ ব্যক্তিদেরও বাইরে চলাচল সীমিত রাখতে বলা হয়।
এ ছাড়া একিউআই স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে সেটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত বায়ুমানের এই সূচক নির্ধারণ করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণ মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। দূষিত বাতাসের প্রভাবে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম