স্টাফ রিপোর্টার: এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা শুরু হয়েছে নতুন নিয়মে—পোস্টার ব্যবহার বন্ধ রেখে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এই বার প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আচরণবিধি ভাঙলে ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা আর দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড এর বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও রয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু
বুধবার ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রতীক পেয়ে প্রচারণা করতে পারতেন প্রার্থীরা। তবে এবার একদিন পরে অর্থাৎ বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে।
ড্রোন, হেলিকপ্টার-সহ প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ
নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটের দিন কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। ইসির আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, দলীয় সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আকাশ থেকে লিফলেট বা অন্য কোনো প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা যাবে না।
জনসভায় স্পিকার সীমা, মাইক ব্যবহার সময়সীমা
প্রচারকালে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো নির্বাচনি এলাকায় একক জনসভায় একই সঙ্গে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।
মাইক ব্যবহারের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে—দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে, তবে শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারসামগ্রীতে নতুন নিয়ম
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বিলবোর্ড ব্যবহারের বিষয়ে ইসি জানিয়েছে, প্রচারণায় বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে, তবে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ। বিলবোর্ডে আলোর ব্যবহার শুধুমাত্র ডিজিটাল বিলবোর্ডে অনুমোদিত।
এছাড়া প্রচারে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইসি জোর দিচ্ছে।
ভোটার স্লিপ বিতরণে নিয়ন্ত্রণ
ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ। স্লিপের আকার সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটার × ৮ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিধান
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাতে হলে প্রার্থীকে তার অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল ও অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির ছবি বিকৃত করা বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ইসি সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ইসি কাউকে ছাড় দেবে না। কোনো শোকজ করা হবে না। লঙ্ঘনকারী প্রার্থিতা বাতিল হবে।
গণমাধ্যমের সংলাপ ও ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ
নতুন বিধিমালায় গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্র পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন।
নির্বাচনী শোভাযাত্রা-শোডাউন নিষিদ্ধ
সংশোধিত আচরণবিধিতে যানবাহন ব্যবহার করে প্রচারণার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল সহ কোনো যানবাহন নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন করা যাবে না। মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও শৃঙ্খলা
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারেও বিধি লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি