রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছে থাকা এক হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই লাখেরও বেশি গুলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় এই অস্ত্রের অনুপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তায় উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ছয় লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ আত্মসাত করে। তবে সাম্প্রতিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৬১৯টি এবং লুটকারীরা চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গুলাবারুদ নিয়ে যায়।
সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনী গত দেড় বছরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২ শতাংশ এবং গুলাবারুদের ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে এলএমজি, এসএমজি ও চায়নিজ রাইফেলের জন্য সরকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলি সাধারণ অপরাধী ও উগ্র গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে তা নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, সেগুলি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে। নির্বাচনের মৌসুমকে অপ্রীতিকর কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র সব সময়ই নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। কোন হাতে অস্ত্র গিয়েছে এবং তারা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নির্বাচনের আগে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনা ভোটারদের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের নির্বাচনী কেন্দ্রে উপস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে।
সরকার বলছে, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা, পুলিশ, বিজিবিসহ প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্র ভোটের সময় ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের পুরোপুরি নিশ্চয়তা না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভোটারদের নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বস্ত না করলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি