সিনিয়র রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন তথ্য প্রচার এবং জুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশে লাইসেন্স ছাড়া টেলিভিশন, রেডিও, ওটিটি ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সামরিক-বেসামরিক গোপন তথ্য ফাঁস ও নিষিদ্ধ বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশটি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে মতামত চেয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই অধ্যাদেশ জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি স্বতন্ত্র ‘সম্প্রচার কমিশন’ গঠন করা হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি কাজ করবে। কমিশনে অন্তত একজন নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশনের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ চার বছর।
প্রস্তাবিত আইনে টেলিভিশন ও রেডিওর পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট, আইপি টিভি, ডিটিএইচ এবং বাণিজ্যিক অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টালকে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন সামরিক বা বেসামরিক গোপন তথ্য প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। একইভাবে জুয়া, বাজি, অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তামাক, মদ বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, সেনানিবাসসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়া অধ্যাদেশে সম্প্রচারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক আচরণবিধি ও সম্প্রচার নির্দেশিকা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচারে ব্যক্তিগত মতামত বা নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তথ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, যাচাইকৃত ও ভারসাম্যপূর্ণ।
অধ্যাদেশে সম্প্রচার-সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সম্প্রচার) মো. আলতাফ হোসেন বলেন, খসড়া অধ্যাদেশটি মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি