রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির চেয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য একটি নিরাপত্তা কার্ড এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’এর প্রতি ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা করেছেন।
মঞ্জু বলেন, ফেনী শুধু একটি জেলা নয়, এটি ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম ও মহিপালের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল জনপদ। আজ এই ফেনীতে গণমানুষের মহাসমুদ্র জমায়েত হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দেশে কথা বলার অধিকার ছিল না, নির্বাচন ছিল প্রহসন। দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষ কিংবা ঈগল মার্কার স্লোগান কোনো কিছুই জনগণ প্রকাশ্যে বলতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনীতে ধানের শীষের পক্ষে একটি মিছিল করতেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ তুলে মঞ্জু স্মরণ করান, ১৬ বছর কারাগারে বন্দি সন্তানের অপেক্ষায় থেকে আমার মা চোখের জল ফেলতে ফেলতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা দেখেছি, শিকল পরা অবস্থায় সন্তানকে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে। বিশ্বজিৎ, আবরার ফাহাদের মতো নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু দাড়ি থাকার অভিযোগে কাউকে হত্যা করা হয়েছে। এ ইতিহাস আমরা ভুলিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার অবক্ষয়ের জন্য সরাসরি শেখ হাসিনাকেই দায়ী করে তিনি বলেন, অহংকার করে বলা হয়েছিল- শেখ হাসিনা পালায় না। কিন্তু বাস্তবতা জনগণই দেখেছে।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হবে? সন্ত্রাস বন্ধ হবে? নারীদের হয়রানি, গুম, খুন বন্ধ হবে? আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা নিরাপত্তা কার্ড চাই। মানুষ যেন ভয় ছাড়া ঘুমাতে পারে, ব্যবসা করতে পারে, রাস্তায় চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বয়স্ক ভাতা, নারী ও দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এটা কোনো রাজনৈতিক দয়া নয়। রাজনৈতিক দল যদি ঘোষণা দেয়, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দলীয়করণ করবো না, জুলুম করবো না, তাহলেই মানুষ স্বস্তি পাবে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। শহীদদের পরিচয় ও বিচার হয়নি, অথচ তাড়াহুড়া করে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগে বিচার, সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী নিশ্চয়তা দরকার।
তিনি উপসংহারে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চিরদিনের জন্য ফ্যাসিবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দরকার মানবিক বাংলাদেশ, ন্যায়ের বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম