| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতির সংকট: ১৮ বছর ধরে বাক্সবন্দী জেনারেটর

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১০, ২০২৫ ইং | ১৪:১৩:২০:অপরাহ্ন  |  ১৬৯৬০৩৫ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতির সংকট: ১৮ বছর ধরে বাক্সবন্দী জেনারেটর
ছবির ক্যাপশন: ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতির সংকট: ১৮ বছর ধরে বাক্সবন্দী জেনারেটর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের স্টোররুমে একটি মোটা কার্টনের বাক্স পড়ে আছে প্রায় দুই দশক ধরে। বাক্সটির ভেতরে রয়েছে একটি ৬০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর, যার দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ২০০৭ সালে এটি হাসপাতালে এসেছিল, কিন্তু আজও একবারও খোলা হয়নি।

একজন হাসপাতাল কর্মকর্তা বলেন, যন্ত্রটা চালু হলে কী অবস্থা হতো, সেটাও জানি না। হতে পারে একেবারে ঠিকঠাকই থাকত। কিন্তু আমরা তো সেটা জানার সুযোগই পেলাম না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০২০, ২০২৩ ও সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জেনারেটরটির ইনস্টলেশন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু আজও কোনো প্রকৌশলী এসে সেটি পরিদর্শন করেননি।

বর্তমানে হাসপাতালে একটি পুরোনো জেনারেটর ব্যবহৃত হচ্ছে, যা খুব সীমিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটারসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থমকে যায়।

হাসপাতালের স্টোরকিপার মাহবুবুর রহমান বলেন, বারবার তালিকা পাঠানো হলেও এখনো কেউ এসে দেখেনি। জেনারেটরটি ব্যবহারযোগ্য কি না, সেটাও জানার সুযোগ মেলেনি।

সার্জারি বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. শিহাব মাহমুদ শাহরিয়ার বলেন, যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে আমরা এখন কাজ করছি, তার বেশিরভাগই ২০-২৫ বছরের পুরোনো। অনেক যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে-কোনোটা আলো দেয় না, কোনোটা গরম হয় না। তবুও ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ৮-১০টি অপারেশন করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, গাইনী, সার্জারি, ইএনটি মিলিয়ে মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০টি অস্ত্রোপচার হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলে রোগীদের আরও নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যেত।

অপারেশন থিয়েটারে বর্তমানে যে যন্ত্রগুলো অচল হয়ে আছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ২টি অটোক্লেভ, ১টি ডায়াথার্মি মেশিন, ৬টি অ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ৬টি সাকার, ৪টি অপারেশন ইন্সট্রুমেন্ট টলি, ২টি অপারেশন লাইট।

এর মধ্যে কিছু যন্ত্র মেরামতযোগ্য হলেও লোকবল ও উদ্যোগের অভাবে মেরামত হয়নি। বাকিগুলো পুরোনো হয়ে কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জয়ন্ত কুমার সাহা বলেন, আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যন্ত্রপাতির তালিকা পাঠিয়েছি। বাক্সবন্দী জেনারেটর থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি সবই উল্লেখ করা হয়েছে। এখন তারা কী ব্যবস্থা নেয়, সেটার অপেক্ষায় আছি।

রোগীরা বলছেন, চিকিৎসা পাওয়া তাঁদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংকটে অনেক সময়ই চিকিৎসা বিঘ্নিত হচ্ছে। জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর বা দিনাজপুরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।



রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪