| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে নিহত ১০০০ ছাড়াল, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৫, ২০২৬ ইং | ১০:০৫:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ৪০৮৬০৫ বার পঠিত
ইরানে নিহত ১০০০ ছাড়াল, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। টানা বিমান হামলা ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, এসব হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অধীন আধাসামরিক সংগঠন ‘বাসিজ’ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০০ শিশু ও কিশোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে তাদের ১৯তম দফার পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ এই অভিযানে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “ট্রু প্রমিজ-৪”।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় উপাদানের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের ঝুঁকিও নেই।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি-এর জানাজার প্রস্তুতি চলছে। গত শনিবার হামলায় তিনি নিহত হন বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তার সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। ইতোমধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

এদিকে হুমকি-পাল্টা হুমকিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “ইরানের পরবর্তী নেতা যেই হোন না কেন, যদি তিনি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তবে তাকেও নির্মূল করা হবে।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব এখন চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থানে আছে।

তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে ইসরায়েল কোনো হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড ন্যাশনস।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪