আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ইসরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন ধাপ শুরু করেছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি বৃহস্পতিবার জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী “ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি” লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পরে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পরিকল্পনা করা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েল-আমেরিকার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে ইরানি বাহিনী সম্মানিত কুর্দিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।”
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরাবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকার কাছে অন্তত চারটি বিস্ফোরণ শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানি কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন কোমালা (কুর্দিস্তান টয়লার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর সদর দপ্তর। সংঘর্ষে কয়েকজন যোদ্ধা আহত হয়েছেন এবং ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার পেছনে আরেকটি প্রেক্ষাপটও রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস(আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ১৯তম ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেয়।
ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ (ইসরায়েল) জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের গ্যালিলি এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত তিনটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। আর কাতার রাজধানী দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী Tehran-সহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কওম শহরের কাছে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করা।
এ অবস্থায় রাজধানী তেহরানের অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরেই রয়ে গেছেন এবং তারা উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি