আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ষষ্ঠ দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে এবং পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ফোনে বলেন, আজকের অবস্থা গতকালের চেয়েও খারাপ। আমরা কোথাও যেতে পারছি না। চারদিকে শুধু বিস্ফোরণের শব্দ।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বিমান হামলায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করা হয়। তাঁর মরদেহকে কেন্দ্র করে তেহরানে তিন দিনের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের কথা থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, এই সময়ের মধ্যেই তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টর্পেডো হামলায় শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর ইরান কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। এতে ৮০ জনের বেশি নাবিক নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের এক সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিশ্বের যেখানেই আমেরিকানদের পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হবে।
যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইসরায়েল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানে ইরানের বহু সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হওয়ার পর এখন এসব গোপন বাঙ্কার ধ্বংসে জোর দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও তরলীকৃত গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও হ্যাক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভি ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি